শনিবার , ১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
×

যৌথ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ ও ভারত

 ১১-১১ গোলে ড্র ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ এ শেষ হওয়ার পর ১১টি করে মোট ২২ শটের টাইব্রেকার ও সাডেন ডেথ। এরপর ম্যাচ কমিশনার ডিলান ডি সিলভা জয়াসুরিয়ার ভুলে সাডেন ডেথ এর শট অব্যহত না রেখে রেফারি টসে ভারতকে জয়ী ঘোষণা করেন। পরে রেফারি অ্যাসেসর তৈয়ব হাসান শামসুদ্দিনসহ সাফের অন্য কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে ভুল বুঝতে পারেন ম্যাচ কমিশনার। এরপর টসের রেজাল্ট বাতিল করে ফের সাডেন ডেথ এর নির্দেশ দেন রেফারি। কিন্তু ভারত এর প্রতিবাদ করে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে ড্রেসিং রুমে চলে যায়। বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা ঠিকই মাঠে বসে থাকে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারতকে এবারের অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা সাফের যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। ফলে শিরোপা বাংলাদেশে থাকার সাথে ভারতও এই টুর্নামেন্টের প্রথম শিরোপার স্বাদ নিলো।

শিরোপা নিতে ভারতের অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক মাঠে আসলেও বাকিরা আসেনি। ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন দুই দলের অধিনায়কের হাতে তুলে দেন ট্রফি। এরপর ট্রফি নিয়ে নেয় সাফ কর্তৃপক্ষ। ফলে বাংলাদেশ দল শুধু পতাকা হাতে নিয়েই গ্যালারির পাশে গিয়ে উল্লাস করে।

এর আগে বয়স ভিত্তিক নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা অক্ষুণ্ন রাখার চ্যালেঞ্জ ছিল বাংলাদেশের। বৃহস্পতিবার কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো অনূর্ধ্ব ১৯ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের এক নাটকীয় ফাইনাল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট পিছিয়ে থাকার পর ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে বাংলাদেশের স্বাগরিকার গোলে এক গোল ঘুরিয়ে দেয় ম্যাচের ভাগ্য (১-১)। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেও ১১-১১ সমতা ছিল।

কমলাপুর স্টেডিয়ামে দর্শকের ঢল। উপলক্ষ নারী সাফ অনূর্ধ্ব ১৯ টুর্নামেন্টের ফাইনাল। টুর্নামেন্ট জুড়ে অপরাজিত বাংলাদেশ শিরোপা জিতেই মাঠ ছাড়বে! এমন বিশ্বাস বুকে নিয়ে নিজের দেশকে সমর্থন জানাতে গ্যালারিতে আসেন বাংলাদেশের সমর্থকরা। যখনই বাংলাদেশের ফুটবলারদের পায়ে বল। তাদের উৎসাহ দিতে এতটুকু কার্পণ্য করেননি গ্যালারির দর্শকরা। যদিও ম্যাচ শুরুর ৯ মিনিটেই সমর্থকদের হতাশ করে রক্ষণের ভুলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। প্রায় মাঝ মাঠ থেকে বাংলাদেশের এক ফুটবলারের পা থেকে বল ছিনিয়ে নেন ভারতের অধিনায়ক নিতু লিন্ডা। লং পাসে বল বাড়ান বক্সে। বল ক্লিয়ার করতে পোস্ট ছেড়ে সামনে বের হয়ে এসেছিলেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক স্বর্ণা রানী মন্ডল। কিন্তু ততক্ষণে বল বুঝে নেন ভারতের ফুটবলার শিবানী দেবী। আগুয়ান গোলরক্ষককে পেছনে ফেলে বক্সের ডান প্রান্ত থেকে দারুণ শটে বাংলাদেশের জালে বল ঠেলে দেন শিবানী দেবী (১-০)। ১৮ মিনিটে বা প্রান্ত ধরে বক্সে বল নিয়ে ঢুকেছিলেন সাগরিকা। তবে ভাঙ্গতে পারেননি ভারতের শক্ত রক্ষণ। ২৯ মিনিটে বক্সের ডান প্রান্ত থেকে জোড়ালো শট নেন শিবানী দেবী। তবে এবার আর পরাস্ত করতে পারেননি স্বর্ণাকে। দক্ষতার সঙ্গেই বল গ্রিপ করেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক। ৩২ মিনিটে বল নিয়ে ভারতের বক্সে ঢুকে পড়েন সাগরিকা। তবে প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডার দু’পাশ থেকে চেপে ধরাতে গোলের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেননি তিনি। ৩৫ মিনিটে স্বপ্না রানীর দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য জড়ায়নি জালে। ৩৮ মিনিটে স্বপ্না আবারও দূরপাল্লার শট নেন। এবার তার শটটি আটকাতে বেশ বেগ পেতে হয় ভারতের গোলরক্ষক অনিকা দেবীর। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে (৪৫+১ মিনিটে) বক্সের বা প্রান্ত থেকে ভারতের ফুটবলার পুজার শট অল্পের জন্য খুঁজে পায়নি বাংলাদেশের জাল। এগিয়ে থেকেই বিশ্রামে যায় ভারত। ৫৪ মিনিটে বক্সের বা প্রান্ত থেকে ভারত অধিনায়কের বাড়িয়ে দেওয়া বল পেয়েও গোলের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন পুজা। বল ক্লিয়ার করেন বাংলাদেশের জয়নব বিবি রিতা। ৬৯ মিনিটে ভারতের বক্সে ফাউলের শিকার হন মুনকি। তবে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত আসেনি। ৭০ মিনিটে বা প্রান্ত থেকে স্বপ্নার কর্ণার পোস্টের কাছে পেয়ে হেড নেন সুরমা। কিন্তু বল চলে যায় বারের ওপর দিয়ে। ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে (৯০+৪) মিনিটে স্বাগরিকা বক্সে বল পেয়ে জড়িয়ে দেন ভারতের জালে (১-১)। ম্যাচে সমতা আনে বাংলাদেশ। নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। পেনাল্টি শ্যুটআউটে বাংলাদেশের গোল করেন আফেইদা, সুরমা, জয়নব, স্বপ্না রানী, মুনকি আক্তার, ইতি, সুলতানা, উমেলা মার্মা, স্বাগরিকা, কানন রানী। ভারতের গোল করেন নেহা, নিতু, শিবানী, ললিতা, চানু, সুলাংজানা, ভিকসিত বারা, সনিবিয়া। হেনা খাতুন পেনাল্টি মিস করলেও রেফারির সিদ্ধান্তে আবারও শটটি নেন তিনি এবং গোল করেন।

১০ ফুটবলারের পেনাল্টি নেওয়া শেষে বাংলাদেশি গোলরক্ষক স্বর্ণা রানী পেনাল্টি থেকে গোল করেন। ভারতের গোলরক্ষক অনিকাও গোল করেন। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় টসে। যেখানে ভারত জিতে শিরোপার স্বাদ নেয়।

নারী সাফের এই টুর্নামেন্টটি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বয়সের ক্যাটাগরিতে হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৮ ও ২০২২ সালে হয়েছে অনূর্ধ্ব ১৮ পর্যায়ে। যার মধ্যে ২০১৮ সালে (প্রথম আসর) চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ, রানার্স আপ হয় নেপাল। ২০২২ আসরে বাংলাদেশকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ভারত। অনূর্ধ্ব ১৯ পর্যায়ে ২০২১ সালে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০২৩ সালে সাফের এই আসরটি হয় অনূর্ধ্ব ২০ ক্যাটাগরিতে। যেখানে ফাইনালে নেপালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। এবার আবারও অনূর্ধ্ব ১৯ ক্যাটাগরিতে হয়েছে টুর্নামেন্ট। টুর্নামেন্টটি রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে হওয়ায় গ্রুপ পর্বেও বাংলাদেশের মুখোমুখি হয়েছিল ভারত। যেখানে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল সাইফুল বারি টিটুর শিষ্যরা।